ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বঙ্গভবনে উঠলেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যে প্রক্রিয়ায় ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী আনসার-ভিডিপি ক্রীড়াঙ্গনের নির্ভরযোগ্য শক্তি: কৃতি খেলোয়াড়দের সংবর্ধনায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আকস্মিক স্পারসো পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী হোয়াইটওয়াশের মিশনে দুর্দান্ত ব্যাট করছে টাইগাররা ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে কর্পোরেট চুক্তি করল তুর্কি এয়ারলাইন্স চাকরিনির্ভরতা থেকে উদ্যোক্তা: আত্মকর্মসংস্থানে আনসারের 'সঞ্জীবন' প্রকল্প একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে : মির্জা ফখরুল বিদ্যুতের দাম বাড়ালো সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য : সিইসি এবার ড. ইউনূসের শাসনামলের সব ঘটনার তদন্ত চেয়ে রিট ভারতগামী ফ্লাইটে একের পর এক বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্প-শি বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ পুলিশকে যেন কেউ দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে বিটিডব্লিউএ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫: সেরা ট্রাভেল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সম্মানিত হলেন সালাহউদ্দিন সুমন

৩৫ বছর আগে সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যেভাবে হয়েছিল

  • প্রকাশের সময় : Aug 20, 2026 ইং
৩৫ বছর আগে সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যেভাবে হয়েছিল ছবির ক্যাপশন:
1768459961horizontal2.png

দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এর আগে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এমন নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। সে সময় রাষ্ট্রপতি পদে ভোট নিয়ে সংসদের ভেতরেই তৈরি হয়েছিল তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা।

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যায়। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে অবস্থান নেয়। এরপর ওই বছরই সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করা হয়।

১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের সমর্থিত সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। দুজনই ছিলেন নির্বাচনের একমাত্র প্রার্থী। 

তৎকালীন সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট ভোটার ছিলেন ৩৩০ জন। তবে ভোট দেন ২৬৪ জন সংসদ সদস্য। ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন ৬৬ জন। 

নির্বাচনে ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন আবদুর রহমান বিশ্বাস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট।

সংসদ কক্ষেই বসেছিল ভোটের বুথ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। স্পিকারের জন্য নির্ধারিত বড় চেয়ারটির পরিবর্তে সেখানে একটি ছোট চেয়ার রাখা হয় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য। তার তত্ত্বাবধানেই শুরু হয় ভোটগ্রহণ। সেই সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুর রউফ।

ভোটগ্রহণ শুরু হয় দুপুর ২টায়। এরপর সংসদ সদস্যরা একে একে ভোট দিতে থাকেন। অধিবেশন কক্ষের ভেতরে একাধিক বুথ স্থাপন করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা সেখানে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করেন।

তবে ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পরই সংসদ কক্ষে তৈরি হয় উত্তেজনা। আওয়ামী লীগের মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, সাজেদা চৌধুরীসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য সেখানে ঢুকে প্রকাশ্যে ভোটগ্রহণের বিরোধিতা করেন। তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রকাশ্য ভোটের ব্যবস্থার সমালোচনা করে হট্টগোল করেন এবং ‘শেইম, শেইম’ বলে প্রতিবাদ জানান।

তৎকালীন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের অভিযোগ ছিল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট প্রকাশ্য হওয়ায় সংসদ সদস্যদের ভোটের গোপনীয়তা থাকছে না। ফলে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ ভোট দিলে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।

প্রকাশ্য ভোট নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশের অন্যান্য নির্বাচনে সাধারণত গোপন ব্যালটে ভোট হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়।

এ কারণে ওই সময় থেকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রকাশ্য ভোটের বিধান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। সংসদ সদস্যরা কোন প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন, তা সংশ্লিষ্ট দল ও পোলিং এজেন্টদের সামনে দৃশ্যমান হওয়ার সুযোগ ছিল।

নির্বাচন শেষে ভোট গণনা করে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তিনি ১৭২ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

এরপর আর ভোটের প্রয়োজন হয়নি

১৯৯১ সালের পর সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান বহাল থাকলেও পরবর্তী কয়েকটি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী না থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি।

গত প্রায় ৩৫ বছরে আটবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে; কিন্তু প্রতিবারই একক প্রার্থী থাকায় ভোট ছাড়াই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবারও রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক:

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ