এদিকে তদন্তকারীরা ২৭ বছর বয়সী নাহিদা বৃষ্টিকে মৃত বলে ধারণা করছেন। তিনি গত সপ্তাহে একই বয়সী জামিল আহমেদ লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন। এর আগে শুক্রবার টাম্পার একটি ব্রিজের কাছে লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ পূর্বপরিকল্পিত দুটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিন ছাড়াই আটক আছেন।
রোববার প্রকাশিত আদালতের নথিতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার আগে অভিযুক্ত আবুঘারবিয়াহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিতে মরদেহ গুম করার উপায় সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করেছিলেন।
নথি অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল তিনি জানতে চান— কাউকে কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ফেলে দিলে কী ঘটতে পারে এবং সেটি কীভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। পরবর্তী দিনগুলোতে তিনি গাড়ির ভিআইএন নম্বর পরিবর্তন এবং লাইসেন্স ছাড়া অস্ত্র রাখার বিষয়েও প্রশ্ন করেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে অভিযুক্তের ফোনের লোকেশন হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় পাওয়া যায়—যেখান থেকে পরে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফরেনসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিমনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত ছিল এবং পিঠের নিচে গভীর ক্ষত লিভার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ময়নাতদন্তে এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গোয়েন্দারা লিমন ও আবুঘারবিয়াহর শেয়ার করা অ্যাপার্টমেন্টে বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করে ব্যাপক রক্তের দাগ শনাক্ত করেছেন। রান্নাঘর, করিডোর ও শোবার ঘরজুড়ে এসব দাগ পাওয়া যায়, যার কিছু অংশ মানুষের আকৃতির মতো ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, অপরাধের নৃশংসতা বিবেচনায় অভিযুক্তকে জামিন না দিয়ে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টিকে সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল টাম্পা এলাকায় দেখা যায়। পরদিন থেকেই তারা নিখোঁজ ছিলেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, মৃতদেহ গুম, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে।