
এদিকে গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করেন। মূলত দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদ ত্যাগ করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সোমবার কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছান। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর আগে রোববার তিনি সংক্ষিপ্ত সফরে ওমান গিয়েছিলেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভঙ্গুর অস্ত্রবিরতি ও শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তার মধ্যেই এসব কূটনৈতিক সফর চলছে।অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের অস্ত্রবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি তিনি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতাকারীরা এই অচলাবস্থা নিরসনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ায়।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ চলাচল করত। বর্তমানে চলাচল কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।