মেয়ের বিয়ে নিয়ে যখন দুশ্চিন্তায় অসহায় এক ভিডিপি সদস্যার পরিবার, তখন সেই দুশ্চিন্তা ভাগ করে নিলেন আনসার-ভিডিপির সহকর্মীরা। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই মিলে গড়ে তুললেন ২ লাখ টাকার সহায়তা তহবিল। সেই সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হলো মেয়েটির বিয়ে।
নীলফামারী সদর উপজেলার ১৩ নম্বর চড়াইখোলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভিডিপি সদস্যা লুৎফা বেগম বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন। ২০০০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর স্বামী মৃত্যুবরণ করার পর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারান। এর আগে ১৯৯৭ সালে তিনি ভিডিপির মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে সেলাই প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেন।
স্বামীহারা লুৎফা বেগমের কন্যা স্মৃতি আক্তারও অত্যন্ত অভাব-অনটনের মধ্যে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতার মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে। ফলে স্মৃতি আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
এমন পরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেন ১৩ নম্বর চড়াইখোলা ইউনিয়নের ইউনিয়ন দলনেত্রী মোর্শেদা পারভিন এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের আনসার-ভিডিপির সদস্য-সদস্যাবৃন্দ। তাঁদের সম্মিলিত ও স্বতঃস্ফূর্ত আর্থিক সহযোগিতায় গড়ে তোলা হয় ২ লাখ টাকার সহায়তা তহবিল।
এই অর্থের মাধ্যমে স্মৃতি আক্তারের বিয়ের প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহন করা হয়। অবশেষে গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তাঁর শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়।
অসহায় একটি পরিবারের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে আনসার-ভিডিপির সদস্যরা প্রমাণ করেছেন, সেবা শুধু দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোও তাঁদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্বের অংশ। তাঁদের এই উদ্যোগ আনসার-ভিডিপির পারস্পরিক সহযোগিতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
নিউজ ডেস্ক: