
বলিউডে তাঁর পরিচয় মূলত নৃত্যশিল্পী, অভিনেত্রী ও পারফরমার হিসেবে। কিন্তু বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল–ভক্তের কাছে নোরা ফাতেহির পরিচয় আরেকটু ভিন্ন। তিনি এমন এক তারকা, যিনি নাচ, সংগীত ও ফুটবল—এই তিন জগৎকে একসুতায় গেঁথে ফেলেছেন।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নোরার পারফরম্যান্স নতুন করে আলোচনায় এনেছে নোরাকে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং ফুটবলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বহু বছরের। মরোক্কান শিকড়, বিশ্বকাপ–উন্মাদনা, জাতীয় দলের প্রতি আবেগ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল–সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগ তাঁকে বলিউডের অন্য অনেক তারকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।নোরা ফাতেহির জন্ম কানাডায় হলেও তাঁর পরিবার মরোক্কান বংশোদ্ভূত। আর মরক্কো এমন একটি দেশ, যেখানে ফুটবল শুধু খেলা নয়; এটি জাতীয় পরিচয়ের অংশ।
শৈশব থেকেই নোরা ফুটবল পরিবেশের মধ্যে বড় হয়েছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপ এলে তাঁদের পরিবারে উৎসবের আবহ তৈরি হতো। আত্মীয়স্বজন একসঙ্গে খেলা দেখতেন, প্রিয় দলের জন্য উল্লাস করতেন। ফলে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তাঁর রক্তেই যেন মিশে আছে।
বলিউডে নোরার জনপ্রিয়তা এসেছে ‘দিলবার’, ‘ও সাকি সাকি’, ‘নাচ মেরি রানি’র মতো গানের মাধ্যমে। কিন্তু ফুটবল তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দর্শকগোষ্ঠীর কাছে। কাতার বিশ্বকাপের সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলোতে অংশ নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।নোরা লিখেছিলেন, স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। এই দল দেখিয়ে দিয়েছে, বিশ্বাস থাকলে অসম্ভব কিছু নেই। মরক্কোর সাফল্যকে তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা বলেও উল্লেখ করেন।
নোরার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে একটি বিষয় বারবার উঠে এসেছে—ফুটবল মানুষকে একত্র করে।
রোনালদোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলা নোরাকে মুগ্ধ করে। অন্যদিকে মেসির সৃজনশীলতা ও খেলার সৌন্দর্যের প্রশংসাও করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ফুটবল–ইতিহাসের দুই মহাতারকাকে একই সময়ে দেখা নিজের এক সৌভাগ্য।
এবারের বিশ্বকাপেও নোরার উপস্থিতি নতুন করে তাঁকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। উদ্বোধনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে তাঁর পারফরম্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে একজন বলিউড তারকার উপস্থিতি ভারতীয় উপমহাদেশের দর্শকদের জন্যও বিশেষ গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নোরা নিজেও বলেছেন, বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত হওয়া তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।