প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 5, 2026 ইং
জাতীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সেনা মহড়ায় আনসার বাহিনী

০৫ জুলাই থেকে আগামী ১৪ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬-এ অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এ মহড়ায় প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করছে উপজেলা/থানা আনসার কোম্পানির স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা। এটি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিনের ধারণার বাস্তবায়নে বাহিনীর সক্ষমতা এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থায় বিশেষ করে অপ্রচলিত যুদ্ধ ব্যবস্থায় (Unconventional Warfare-UCW) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর তৃণমূল পর্যায়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী উপজেলা আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো জাতীয় সংকট বা যুদ্ধাবস্থায় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় গণযুদ্ধের ধারণাকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে প্রশিক্ষিত ও অস্ত্রচালনায় পারদর্শী এসব স্বেচ্ছাসেবী আনসার ভিডিপি সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।
গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যে সদস্যদের তিন দিনব্যাপী অন দ্য জব ট্রেনিং (On-the-Job Training-OJT) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রশিক্ষণে রেইড, অ্যাম্বুশ, ফার্ম বেস স্থাপনসহ বিভিন্ন মাইনর অপারেশন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়, যা মহড়ায় অংশগ্রহণের জন্য সদস্যদের আরও দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
বর্তমান মহাপরিচালকের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাহিনীর উপজেলা আনসার কোম্পানি ও প্লাটুনগুলো নতুনভাবে সংগঠিত ও কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষিত, তরুণ ও দেশপ্রেমিক সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নবগঠিত এই প্লাটুনের সদস্যরা সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রচলিত ও অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬-এ উপজেলা/থানা সঞ্জীবন আনসার প্লাটুনের স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই মহড়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা আধুনিক সামরিক কৌশল, সমন্বিত অভিযান পরিচালনা এবং অপ্রচলিত যুদ্ধব্যবস্থার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন, যা ভবিষ্যতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় বাহিনীর সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক নয়াদিন