
‘প্রতিশোধের আগুন’ সিনেমার মাধ্যমে ২০১৯ সালে রুপালি পর্দায় যাত্রা শুরু করেন অভিনেত্রী মৌ খান। এরপর ‘বান্ধব’, ‘বাহাদুরি’ এবং ডিপজলের বিপরীতে ‘যেমন জামাই তেমন বউ’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি চলচ্চিত্রপাড়ায় নিজের অবস্থান শক্ত করেন। মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে ক্যারিয়ার শুরু করা এই অভিনেত্রী সিনেমার পাশাপাশি ওয়েব ফিল্মেও সমানতালে কাজ করছেন। গতকাল মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘স্নেহের বন্ধন’। এই সিনেমাসহ ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন—সাবিকুন নাহার সাদিয়া
‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। আপনার অনুভূতি কেমন?
মৌ খান: আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগছে। ‘স্নেহের বন্ধন’ সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত একটি সুন্দর মৌলিক গল্পের সিনেমা। দর্শকদের কাছ থেকে প্রথম দিনই খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। পাচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ।
সিনেমাটির সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হলেন?
মৌ খান: এই সিনেমার পরিচালক কামরুজ্জামারে সঙ্গে এর আগে একটি সিনেমায় কাজ করেছিলাম। সেই সুবাদে তার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। এরপর তিনি যখন আমাকে এই সিনেমার গল্প শোনালেন, তখন পুরো গল্পটি শুনি। গল্প নিয়ে আলোচনা করার পরই সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত হই। সিনেমায় আপনার চরিত্রটিতে কতটা ভিন্নতা রয়েছে?
মৌ খান: আমি এর আগে যতগুলো সিনেমায় অভিনয় করেছি, সেগুলোর তুলনায় এই চরিত্রটি আমার কাছে একেবারেই ভিন্ন মনে হয়েছে। এখানে অভিনয়ের অনেক জায়গা ছিল। সিনেমাটিতে ফ্যামিলি ড্রামা, রোমান্স ও পারিবারিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আমাকে একেবারে ভিন্ন একটি চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়েছে। দর্শক সিনেমাটি দেখলেই বুঝতে পারবেন কেমন হয়েছে। আমি আমার জায়গা থেকে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
‘স্নেহের বন্ধন’ ছবির গল্পটি কী নিয়ে?মৌ খান: এটি একটি পারিবারিক গল্পনির্ভর সিনেমা। আমাদের প্রত্যেকের পরিবারেই কোনো না কোনো সমস্যা বা ঘটনা থাকে। সিনেমাটি দেখলে অনেকের মনে হবে, এটি যেন তাদের নিজেদের পরিবারের গল্প কিংবা তাদের পরিবারেও এমন ঘটনা ঘটেছে।
সিনেমাটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কতটা?
মৌ খান: সিনেমাটি নিয়ে আমার প্রত্যাশা অনেক বেশি। অনেক দর্শক হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখেছেন এবং ভালো সাড়া দিয়েছেন। তাদের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয়েছে, তারা সিনেমাটি উপভোগ করেছেন এবং আমাদের গল্পটি পছন্দ করেছেন। তাই আমি অনেক আশাবাদী, আরও অনেক দর্শক সিনেমাটি দেখবেন এবং এ সম্পর্কে জানবেন। অনেকে পরিবার নিয়েও সিনেমাটি দেখেছেন। তাদের অনেকেই আমাদের জানিয়েছেন, সিনেমাটি ভালো হয়েছে।
পূজায় একসঙ্গে তিনটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এতে কোনো ঝুঁকি দেখছেন?
মৌ খান: না, আলহামদুলিল্লাহ। আমি কোনো ঝুঁকি দেখছি না। বরং আমার ভালো লাগছে যে, আমাদের বাংলাদেশি সিনেমা এগিয়ে যাচ্ছে। পূজাকে উৎসব হিসেবে ধরে সবাই সিনেমা মুক্তি দিচ্ছেন, এতে আমি অনেক বেশি খুশি। আমি চাই, প্রতি সপ্তাহেই নতুন সিনেমা মুক্তি পাক, যাতে দর্শক হলমুখী হন এবং আমাদের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি বেঁচে থাকে। একসঙ্গে তিনটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, প্রতিটি সিনেমার জন্যই আমার শুভকামনা রইল। পাশাপাশি চাইব, দর্শক হলে গিয়ে অন্য সিনেমাগুলোর সঙ্গে আমার সিনেমাটিও দেখবেন।
বর্তমানে আপনার হাতে আর কোনো সিনেমা আছে?
মৌ খান: অবশ্যই। আমি ‘চাইল্ড অব দ্য স্টেশন’ নামে একটি সিনেমায় কাজ করছি। এটির গানের শুটিং বাকি আছে। এ ছাড়া ‘তবুও প্রেম দামি’ সিনেমায়ও কাজ করছি, এটিরও গানের শুটিং বাকি। আরও চার-পাঁচটি চলচ্চিত্র সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। সেগুলো এখন মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
সিনেমার পাশাপাশি ওটিটি কনটেন্ট নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
মৌ খান: ওটিটি নিয়ে আমি খুবই ইতিবাচক। নিজেও ওটিটিতেও কাজ করছি। কিছুদিন আগে ‘শিকারি’ নামে একটি ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করেছি। এতে আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন রাশেদ মামুন অপু ভাই ও কায়েস আরজু ভাই। এটি এক রাতের হত্যাকাণ্ড নিয়ে নির্মিত গল্প। এর আগে ‘মাফিয়া’ নামে একটি ওয়েব সিরিজেও কাজ করেছি।
বর্তমান সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির পরিস্থিতি নিয়ে কী বলবেন?
মৌ খান: বাংলা সিনেমার ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা প্রতিনিয়ত ভালো হচ্ছে। আমরা খুবই আশাবাদী। কারণ, বর্তমানে ভালো গল্প নিয়ে নতুন নতুন সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। দর্শক আবারও হলমুখী হচ্ছেন। কিছু কিছু সিনেমায় দর্শকের উপচে পড়া ভিড় দেখেছি। ভালো গল্প হলে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে যান। তাই আমরা চাই, দর্শক আরও বেশি হলমুখী হোন এবং আরও ভালো মানের সিনেমা মুক্তি পাক।