লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব সালিম গ্রামে ইসরায়েলের দুই দফা বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেইর এজ-জাহরানি পৌর এলাকায় চালানো আরেকটি হামলায় একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, দুওইর গ্রামের পূর্ব প্রবেশপথে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।এনএনএ জানিয়েছে, আল-নুমাইরিয়াহ গ্রামে চালানো বিমান হামলায় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। একইভাবে কফর গোজ গ্রামে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস করার পর আধা ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে আরেকটি আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে সেটিও গুঁড়িয়ে দেয়।
এ ছাড়া কফর রেমান, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা, শুকিন, হাব্বুশ, জেবদিন, সাজদ এবং মাহমুদিয়াহ গ্রামেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
নাবাতিয়েহ শহরের রাহবাতে এলাকায় এবং এর আশপাশেও ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এনএনএ।
নতুন যুদ্ধবিরতির পরপরই লেবাননে ইসরায়লের ১২ হামলা

ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে আজ স্থানীয় সময় ৪টায়। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে লেবাননে অন্তত ১২টি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
শুক্রবার (১৯ জুন) আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, লেবাননের নাবাতিয়েহ, জাবাল আল-রাফি, আল-রাইহান, আদশিত ও মাসির হাব্বুশসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে।। এছাড়া পৃথক আরেকটি স্থানেও ইসরায়েলি গোলাবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিট থেকে নাবাতিয়েহ ও আশপাশের এলাকায় অব্যাহতভাবে গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবাননের পরিস্থিতি এখনো যুদ্ধবিরতির মতো মনে হচ্ছে না। বরং অতীতের অভিজ্ঞতারই পুনরাবৃত্তি হয়েছে। কারণ, প্রতিবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরই নতুন করে সামরিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে যেকোনো হুমকির জবাব দিতে এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ‘অভিযান পরিচালনার স্বাধীনতা’ বজায় রাখবে।
এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতির প্রকৃত কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক: