যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে আরও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তু প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং যুদ্ধের আগের তুলনায় অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা আড়াই গুণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ি-নিক বলেন, নতুন করে হামলা হলে তার দৃঢ় জবাব দেওয়া হবে এবং এতে ইরানের প্রতিপক্ষদের আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
কুহ-ই কোলাং বা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’- এ সম্ভাব্য হামলার জবাবে ইরান কী করবে; এমন প্রশ্নের জবাবে তালায়ি-নিক বলেন, নতুন করে আগ্রাসন চালানো হলে পাল্টা হামলার জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনী যেসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে, সেগুলো এরই মধ্যে চিহ্নিত ও প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি, আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌ, স্থল ও আকাশযুদ্ধের বিভিন্ন ব্যবস্থা সশস্ত্র বাহিনীর কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। তালায়ি-নিকের দাবি, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের যে অস্ত্র, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল, তার তুলনায় বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা আড়াই গুণ বেড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই যুদ্ধের পর এ সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, কিছু ধরনের অস্ত্রের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্ক বর্তমানে ১ হাজারের বেশি অস্ত্র, সামরিক ব্যবস্থা, সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের বিভিন্ন ধরনের উপকরণ উৎপাদনে সক্ষম বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বন্ধ হয়নি বা কমেও যায়নি বলে জানিয়েছেন তালায়ি-নিক।
তিনি বলেন, বিদ্যমান চুক্তির আওতায় মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা সক্রিয় রয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা, দুই ক্ষেত্রেই দুই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।
কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা কূটনীতি ও পরামর্শ আরও জোরদার হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে অথবা এককভাবে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি ইসরায়েল নিচ্ছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইসরায়েল হায়োম জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা ও সামরিক সহযোগিতাও অব্যাহত রেখেছে তারা।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া কিংবা আগাম হামলা চালানোর সম্ভাবনার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ওই যুদ্ধে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
নিউজ ডেস্ক: