ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্পিকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ নেপালে বন্যায় বহু প্রাণহানি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোক ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে উঠলেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যে প্রক্রিয়ায় ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী আনসার-ভিডিপি ক্রীড়াঙ্গনের নির্ভরযোগ্য শক্তি: কৃতি খেলোয়াড়দের সংবর্ধনায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আকস্মিক স্পারসো পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী হোয়াইটওয়াশের মিশনে দুর্দান্ত ব্যাট করছে টাইগাররা ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে কর্পোরেট চুক্তি করল তুর্কি এয়ারলাইন্স চাকরিনির্ভরতা থেকে উদ্যোক্তা: আত্মকর্মসংস্থানে আনসারের 'সঞ্জীবন' প্রকল্প একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে : মির্জা ফখরুল বিদ্যুতের দাম বাড়ালো সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য : সিইসি এবার ড. ইউনূসের শাসনামলের সব ঘটনার তদন্ত চেয়ে রিট

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডেই মশার রাজত্ব

  • প্রকাশের সময় : Sep 10, 2026 ইং
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডেই মশার রাজত্ব ছবির ক্যাপশন: চমেক হাসপতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ঢুকতেই চোখে পড়ে ভয়াবহ বাস্তবতা। সারি সারি বেডে জ্বরে কাতর রোগীরা শুয়ে আছেন অরক্ষিত। মাথার ওপর নেই কোনো মশারি। ছবি: সংগৃহীত
1768459961horizontal2.png

ভর্তির মাত্র দুদিনের মাথায় মৃত্যু হলো ৩০ বছর বয়সী ময়না আক্তারের। নগরীর বন্দর এলাকার এই নারী গত ৬ সেপ্টেম্বর জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক)। গত ৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম, সেপসিস ও কিডনি বিকল হয়ে সব শেষ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে এভাবেই প্রতিনিয়ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন অসংখ্য মানুষ। 
চমেক হাসপতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ঢুকতেই চোখে পড়ে ভয়াবহ বাস্তবতা। সারি সারি বেডে জ্বরে কাতর রোগীরা শুয়ে আছেন অরক্ষিত। মাথার ওপর নেই কোনো মশারি। যে মশার কামড়ে এই রোগের জন্ম, সেই মশাই যেন এখানে রাজত্ব করছে নির্বিঘ্নে। ময়না আক্তারের মৃত্যু তারই এক নির্মম প্রমাণ। আর এই ভয়াবহ চিত্রের পেছনে দায় শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একার নয়; খোদ রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম অসচেতনতাও কম দায়ী নয়। যে কারণে এখানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৩৭১, নারী ৭২৫ এবং শিশু ৫২৫ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮৯ জন। সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৪৩২ জন। জেলায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন সীতাকুণ্ডে ৩৪৩ জন। এরপর কর্ণফুলীতে ১৮৬ ও বাঁশখালীতে ৯০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি বছরের আগস্টে ১ হাজার ২০২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে ১৪ হাজার ৮৭ জন আক্রান্ত এবং ১০৭ জনের মৃত্যুর রেকর্ড রয়েছে। 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার দোহাজারী ইউনিয়নের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী মো. রিফাত ছয় দিন অসুস্থ থাকার পর সোমবার চমেকে ভর্তি হয়েছেন। তার মা নূর জাহান বেগম বলেন, পাঁচ-ছয় দিন আগে রিফাত অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসক জানান, তার ডেঙ্গু হয়েছে। পরে সাতকানিয়া থেকে চিকিৎসক চট্টগ্রামে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিলে তারা চমেকে আসেন।

রিফাতের বেডে মশারি থাকা সত্ত্বেও তা না টাঙানোর কারণ জানতে চাইলে নূর জাহান বেগম বলেন, ‘মশারি রাতে টাঙাব। এখন তো ডাক্তাররাও বলছে না কিছু।’

পাশের বেডে চিকিৎসাধীন কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ২৮ বছর বয়সী তারেকও একই দিন ভর্তি হয়েছেন। তার বমি ও তিন-চার দিন ধরে জ্বর ছিল। তার বাবা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এখানে তো কোনো মশারি নাই। মশারি হয় টাকা দিয়ে কিনতে হবে, আর না হয় বাড়ি থেকে আনতে হবে।’

চমেকের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের মেডিকেল অফিসার ডা. জাকিয়া সুলতানা বলেন, এখানে আসা রোগীদের অধিকাংশই জ্বর ও কাশি নিয়ে আসছেন। গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীরাও এখানে ভর্তি হচ্ছেন। ফলে রোগীর চাপ বেশি। 

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে ৬০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন এবং গত পরশু একজন রোগী মারা গেছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় পৃথক চিকিৎসক দলও ডেডিকেটেড ও আলাদাভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রোগীদের উপসর্গ সম্পর্কে তিনি বলেন, চমেক টারশিয়ারি হাসপাতাল হওয়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে রেফার হয়ে আসা রোগীদের মধ্যে সাধারণত ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম দেখা যাচ্ছে। রক্তচাপের ওঠানামা, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ও রক্তক্ষরণের মতো ওয়ার্নিং সাইন নিয়ে অনেকে আসছেন। আবার অনেকে শুধু জ্বর নিয়েও ভর্তি হচ্ছেন।

মশারি সংকটের বিষয়ে পরিচালক বলেন, ডেঙ্গু ওয়ার্ডের রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত মশারি রয়েছে। গত সপ্তাহে এমএসএফ থেকে প্রায় ৬ হাজার মশারি সরবরাহ করা হয়েছে এবং সেগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে স্টোরে রয়েছে। তার দাবি, রোগীরা সচেতনতার অভাবে মশারি ব্যবহার করতে চান না। তবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে সকালের রাউন্ডে নিয়মিত রোগীদের মশারি ব্যবহারের জন্য বলা হচ্ছে এবং তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তার মতে, সচেতনতা ছাড়া কেবল ওষুধের মজুদ বাড়িয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। রোগীরা মশারি ব্যবহার না করলে হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত মশারি সরবরাহ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

এদিকে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সম্পর্কে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলছে। এর আওতায় ফগিং, ঝোপঝাড় পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ড্রেনে লার্ভিসাইড টেমিফস স্প্রে করা হচ্ছে। হটস্পট এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ চলছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক:

কমেন্ট বক্স
যে কোনো দলের বৈধ প্রার্থী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে

যে কোনো দলের বৈধ প্রার্থী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে

ad300