নির্বাচন না হওয়ার সুযোগ নেই, সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করছি
- প্রকাশের সময় : Feb 9, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
1768459961horizontal2.png
দেশ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই আগ্রহী। নির্বাচন কমিশন আগ্রহী, সরকার আগ্রহী, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আগ্রহী, পুলিশ আগ্রহী, সেনাবাহিনী আগ্রহী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনীও; সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।এত বিপুলসংখ্যক সামরিক বাহিনীর সদস্য অতীতে ডেপ্লয় (মোতায়েন) হয়নি। আমার জানা মতে হয়নি।’ গত মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাসহ গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। এ সভায় বিমান ও নৌবাহিনী প্রধানও উপস্থিত ছিলেন।এদিন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানরা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা, ঢাকা বিভাগের গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।তিন বাহিনীর প্রধানরা একসঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হওয়া প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, ‘প্রথমত, সিভিল প্রশাসনকে সহায়তা করা। দ্বিতীয়ত, ভোটারদের মেসেজ দেওয়া যে, বাহিনীগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সিরিয়াস এবং একটি সুন্দর নির্বাচন করার জন্য ক্যাপাবল।’সেনাপ্রধান ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘ভোটারদের তাদের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। ইনশাআল্লাহ আমরা একটা সুন্দর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি।’ভোটের দিন যারা অপরাধ করবে, সশস্ত্র বাহিনী ধরলে তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেই আহ্বান জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘এদের আইনের আওতায় যদি নিয়ে আসেন, তাহলে আমি মনে করি নির্বাচন করাটা খুব সহজ হয়ে যাবে। পুলিশ বাহিনীর জন্য র্যাব, বিজিবি, সশস্ত্র বাহিনী সবার জন্য নির্বাচন করা সহজ হয়ে যাবে। অপরাধ করল আমরা ধরে হস্তান্তর করলাম; কিন্তু কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলো না; সেটা কাউন্টার প্রোডাক্টিভ হবে।’সশস্ত্র বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য নিয়োজিত আছে। কিন্তু সে তুলনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক যানবাহন নেই। জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মাধ্যমে বা বাহিনীগুলো নিজেরা গাড়ির ব্যবস্থা করে সার্বক্ষণিক টহল পরিচালনা করবে বলে জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো সদস্য বসে থাকবে না। কন্টিনিউয়াসলি প্যাট্রলিং করবে। আমার অনেক ফোর্স নিয়ে আমরা ডেপ্লয় হয়েছি। আমি চাই, রোবস্ট প্যাট্রলিংয়ের মাধ্যমে একটা প্রেজেন্স, যাতে যারা ক্রিমিনাল, যেন তাদের নির্বাচনে বাধাদান থেকে দূরে রাখা যায়।’সব বাহিনী ও নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের বিষয়ে জোর দিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ‘সমন্বয়টা যদি সুন্দরভাবে করা যায় অবশ্যই নির্বাচন করাটা অত্যন্ত সহজ হবে বলে আমি মনে করি। এখানে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং বলা হয়েছে যে, পোলিং স্টেশনের আঙিনা পর্যন্ত যেতে পারব। আপনাদের প্রয়োজনে যে কোনো জায়গায় সহায়তার জন্য যাব।’সংখ্যালঘুদের বিষয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘মাইনরিটিদের জন্য একটা বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের সুরক্ষা প্রদান করা। আমি জানি, তারা অলরেডি সুরক্ষিত। তারপরও একটা হাইট বিভিন্ন কর্নার থেকে তুলে মাইনরিটিদের প্রতি এই করা হচ্ছে, ওই করা হচ্ছে। ইজ নট ট্রু এক্সেজারেটেড ইনফরমেশন। তারপরও তাদের প্রতি আমাদের একটা বিশেষ যত্ন নিতে হবে, যেন উনারা নির্ভয়ে বাসা থেকে বের হয়ে ভোটের কাজ করে ফেরত আসতে পারে। এটা অ্যাপ্লিকেবল ফর অল, যত ভোটার আছে সবার জন্যই এটা অ্যাপ্লিকেবল।’মতবিনিময় সভায় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা তিন বাহিনী প্রধানরা সবাই একসঙ্গে যাই একটা জাতির কাছে, জনগণের কাছে আমরা একটা বার্তা দিই যে, আমরা একতাবদ্ধভাবে দেশের জন্য, জনগণের জন্য একটা নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য আমরা সবাই একত্রিতভাবে কাজ করছি নির্বাচন কমিশনকে এবং আমরা সরকার ও প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করতে বদ্ধপরিকর।’তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী ২৩টি উপজেলা এবং তিনটি সিটি করপোরেশনে প্রায় ৫ হাজার সদস্য মোতায়ন রয়েছেন। এ ছাড়া আমাদের উপকলী অঞ্চলগুলো ভোলা হাতিয়া, সন্দীপ, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিনে আমাদের এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা ও জাহাজ মোতায়ন রয়েছে। আমরা অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি যারা পর্যবেক্ষক আসবেন, তাদের সুষ্ঠু এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে এবং নিরাপত্তা প্রদান করতে চাই। এজন্য আমাদের তৎপরতা বিরাজমান।’বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, ‘এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টারে আমাদের লাইভ ফিড থাকবে এবং যে কোনো প্রয়োজনে আমরা বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন থেকে শুরু করে অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে আমাদের এই তথ্যগুলো দিতে পারব।’তিনি বলেন, ‘আমাদের যতগুলো হেলিকপ্টার আছে এবং আমাদের ট্রান্সপোর্টের সব স্ট্যান্ডবাই আছে, বিশেষ করে আমরা এগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও যশোর এই চারটা ব্রিগেড রাখব। এখান থেকে আমরা সারা দেশকে কাভার করতে পারব। যেখানে যেখানে প্রয়োজন হবে। আমরা অলরেডি বিভিন্ন জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি, উনাদের এলাকায় যত হেলিপ্যাড আছে, এগুলোকে সচল রাখার জন্য। যদি কোনো প্রয়োজন হয় আমরা হেলিকপ্টার যাতে এখানে নিয়ে ল্যান্ড করতে পারি।’বিমানবাহিনী প্রধান বলেন, ‘জাতিকে একটা অনুকরণীয় নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
নিউজটি আপডেট করেছেন :
নয়াদিন ডেস্ক
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নয়াদিন ডেস্ক