প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ১৯ হাজার ১৬১ সন্দেহভাজন হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৮৯৭ জন, যদিও বিস্তারিত অংশে এই সংখ্যা দুই হাজার ৯৭৩ উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৬৬ জন, যেখানে মৃত্যুহার (সিএফআর) ০.৯ শতাংশ। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামের কারণে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের, এ ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ১.১ শতাংশ।
হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ হাজার ৩১৮ জন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯ হাজার ৭৭২ জন।সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে—৮ হাজার ২৬৩ জন। এরপর রাজশাহী (৩,৭৪৭), চট্টগ্রাম (২,৫১৪) এবং খুলনা বিভাগে (১,৫৬৮) সংক্রমণ বেশি।
ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকায় সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। আক্রান্তদের ৮৩ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী।
এর মধ্যে দুই বছরের কম বয়সী ৬৬ শতাংশ এবং ৯ মাসের কম বয়সী শিশু ৩৩ শতাংশ। সন্দেহভাজন ১৬৬ মৃত্যুর বেশিরভাগই টিকা না পাওয়া দুই বছরের কম বয়সী শিশু।
এছাড়া ৯১ শতাংশ রোগী এক থেকে ১৪ বছর বয়সী, যা এই বয়সী শিশুদের মধ্যে বড় ধরনের রোগপ্রতিরোধ ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাস ও ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমণের ৭–২৩ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়, যেমন জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং মুখে সাদা দাগ। পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।
ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে চার দিন পর পর্যন্ত রোগটি ছড়াতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, বেশিরভাগ রোগী ২–৩ সপ্তাহে সুস্থ হয়। তবে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এনসেফালাইটিস, অন্ধত্ব এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও রয়েছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, বাংলাদেশ একসময় হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিল। তবে ২০২৪–২৫ সালে এমআর টিকার ঘাটতি, নিয়মিত টিকাদানের ফাঁক এবং সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকার কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
ফলে টিকা না পাওয়া বা আংশিক টিকা পাওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে যায়, যা বর্তমান প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ।জাতীয় টিকাদান কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি (এনআইটিএজি) ৩০ মার্চ দেশব্যাপী এমআর টিকাদান কর্মসূচি অনুমোদন করে। ৫ এপ্রিল ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শুরু হয়ে ২০ এপ্রিল তা সারাদেশে বিস্তৃত হয়।
নিউজ ডেস্ক: