ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বগুড়ার বাগবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ফের ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল উত্তর কোরিয়া, বাড়ছে উত্তেজনা বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানা কেন অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া? জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিনর গ্রুপ প্রধানের সাক্ষাৎ ইরান আলোচনায় ফিরে না এলেও কিছু যায় আসে না : ট্রাম্প এমন সশস্ত্র বাহিনী চাই, যাদের বহিঃশক্তি সমীহ করবে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি কেন পেয়েছিলেন পূর্ণিমা হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার : স্বাস্থ্য সচিব ইরানের সঙ্গে ‘১০ দফা’ চুক্তির খবরকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিতে জিতেছে ইরান, বড় সাফল্য বলছে যুক্তরাষ্ট্র বগুড়ায় উপনির্বাচন ও শেরপুরে নির্বাচন উপলক্ষে আনসার-ভিডিপির সর্বাত্মক প্রস্তুতি আদালতের উদ্দেশে ডিবি কার্যালয় থেকে শিরীন শারমিনকে নেওয়া হয়েছে ৭০-এর দশকেও বিশ্ব দেখেছিল তেল সংকট, এবার কী অপেক্ষা করছে? নতুন সরকারের প্রথম একনেকে অনুমোদন পেল ৬ প্রকল্প স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী ট্রাম্পের অহংকার মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে ইরান যে কোনো সময় মার্কিন দূতাবাসে হামলা, সতর্কতা জারি যুদ্ধ বন্ধে চীন ও পাকিস্তানের ৫ দফা

ঐতিহ্য, ঐক্য ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত: টাঙ্গাইলের ভাদুরীর চর সরকার বাড়ি

  • প্রকাশের সময় : Mar 26, 2026 ইং
ঐতিহ্য, ঐক্য ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত: টাঙ্গাইলের ভাদুরীর চর সরকার বাড়ি ছবির ক্যাপশন:
1768459961horizontal2.png


নিজস্ব প্রতিবেদক | টাঙ্গাইল (গোপালপুর)

টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের ভাদুরীর চর এলাকায় অবস্থিত ‘সরকার বাড়ি’—যেখানে একই ছাদের নিচে গড়ে উঠেছে ঐতিহ্য, পারিবারিক বন্ধন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আধুনিকতার এক অনন্য সমন্বয়। সাত ভাই ও এক বোনের এই বৃহৎ পরিবারটি আজও একসঙ্গে বসবাস করে তৈরি করেছে বিরল এক দৃষ্টান্ত, যা স্থানীয়ভাবে বিস্ময়, প্রশংসা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পিতা-মাতার মৃত্যুর পরও ভাই-বোনদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ এতটাই অটুট যে আলাদা হয়ে যাওয়ার চিন্তাও তাদের মনে স্থান পায়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে। পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সকল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পারস্পরিক আলোচনা ও সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে, যা তাদের পারিবারিক কাঠামোকে করেছে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী।

এই পরিবারের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তাদের যৌথ জীবনযাপন পদ্ধতি। প্রতিদিনের বাজার-সদাই, রান্না-বান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয় সম্মিলিত ব্যবস্থাপনায়। প্রায় ৫০ জন সদস্য ও অতিথির জন্য প্রতিদিন একসঙ্গে রান্না করা হয় এবং সবাই মিলেমিশে একত্রে খাবার গ্রহণ করেন—যা বর্তমান এককেন্দ্রিক ও ব্যস্ত জীবনের প্রেক্ষাপটে এক বিরল ও অনুকরণীয় চিত্র।

শুধু পারিবারিক জীবনেই নয়, ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রেও এই পরিবারের ঐক্য সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। বছর কয়েক আগে একই পরিবারের ১১ জন সদস্য একসঙ্গে পবিত্র ওমরাহ পালন করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। এছাড়াও ঈদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে তারা একই রঙের পোশাক পরিধান করেন, যা তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, সাম্য ও একাত্মতার প্রতীক হিসেবে বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—সবার বড় মোঃ জাকির হোসেন, এরপর পর্যায়ক্রমে মোঃ ইসমাইল হোসেন, মোঃ আসাদুজ্জামান, মোঃ রফিকুল ইসলাম, ডা. আব্দুর রশিদ, একমাত্র বোন হাসনা বেগম, ডা. এস. এম. হায়দার আলী এবং সর্বকনিষ্ঠ এস. এম. আল হেলাল। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠিত এবং সমাজে সম্মানজনক অবস্থানে অধিষ্ঠিত।

পিতা-মাতার স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তারা প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘জমিলা হাকিম কল্যাণ ট্রাস্ট’ ও ‘সুখী পল্লীমা সোসাইটি’ নামে দুটি সংগঠন। বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনপ্রাপ্ত এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়মিত দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তারা। ‘জমিলা হাকিম কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে প্রতিবছর ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করা হয়, যা ধর্মীয় চেতনা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে ‘সুখী পল্লীমা সোসাইটি’ সারা বছর জুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে এলাকায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও পরিবারটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ, ধর্মীয় আয়োজন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে তারা সবসময়ই সক্রিয়। ফলে স্থানীয়ভাবে তারা ব্যাপক সম্মান ও ভালোবাসা অর্জন করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, “বর্তমান সময়ে যেখানে সামান্য বিষয় নিয়েও পরিবারে ভাঙন দেখা যায়, সেখানে সরকার বাড়ির এই ঐক্য সত্যিই অনুকরণীয়। তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ সমাজের জন্য একটি বড় শিক্ষা।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সদস্যরা প্রত্যেকে নিজ নিজ পেশায় ব্যস্ত থাকলেও যখন ভাদুরীর চর সরকার বাড়িতে একত্রিত হন, তখন সকল ভেদাভেদ ভুলে তারা হয়ে ওঠেন এক অবিচ্ছেদ্য পরিবার। পরস্পরের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তাদের আচরণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—যেন প্রত্যেকে প্রত্যেককে আগলে রাখার এক অদৃশ্য বন্ধনে আবদ্ধ।

সরকার বাড়ির ঐতিহ্যের শিকড়ে গাঁথা  বংশ ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, মোঃ নজরুল ইসলাম সরকার নামে এক পূর্বপুরুষ ভুয়াপুর এলাকা থেকে এসে ভাদুরীর চর গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর উত্তরসূরি দূরগোতিয়া সরকার। পরবর্তীতে আনু সরকার, মুনু সরকার, জমির উদ্দিন সরকারসহ একাধিক প্রজন্মের মাধ্যমে বংশধারা বিস্তৃত হয়। জমির উদ্দিন সরকারের বংশধর আব্দুল শেখের ঘরে জন্ম নেন আব্দুল হাকিম ও আব্দুল আলিম। আর আব্দুল হাকিমের ঘর আলোকিত করেই জন্ম নেয় বর্তমান প্রজন্মের সাত ভাই ও এক বোন, যারা আজ ঐক্য ও পারিবারিক বন্ধনের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত।

সরকার বাড়ির এই সম্মিলিত জীবনযাপন কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়; এটি একটি আদর্শ সমাজ গঠনের বাস্তব উদাহরণ। যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি পরিবার কীভাবে দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে—তারই জীবন্ত প্রতিচ্ছবি এই পরিবার।

বর্তমান প্রজন্ম যখন ক্রমেই পারিবারিক মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন ভাদুরীর চর সরকার বাড়ির এই অনন্য দৃষ্টান্ত নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—ঐক্যেই শক্তি, আর ভালোবাসাই একটি পরিবারের প্রকৃত ভিত্তি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নয়াদিন ডেস্ক:

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ